কিছু লোক দেশের ভালো চায়নাঃপ্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা ঘটনা ঘটিয়ে কেউ কেউ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটা মর্যাদার আসনে নিয়ে এসেছি। আমি জানি, কিছু লোকের এটা পছন্দ হয় না। তারা নানাভাবে একটা ঘটনা ঘটিয়ে দেশের একটা বদনাম করতে পারলেই খুশি হয়।”

এই প্রসঙ্গে পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, “এমন একটা চক্র আছে। পদ্মা সেতুর মতো একটা  প্রজেক্ট বন্ধ করার জন্য বিদেশে গিয়ে তদ্বির করে সেই সেতুর টাকা বন্ধ করতে পারে যারা, তারা দেশের কত বড়় শত্রু সেটা সবার বিবেচনা করতে হবে।

“কাজেই এরা কোনোদিন জনগণের কল্যাণ চায় না। তারা নিজের স্বার্থটা দেখে। ব্যক্তি স্বার্থ যেন অনেক বড় হয়ে যায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি এইটুকু বলতে চাই, বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে। সকল চক্রান্ত সবকিছু ভেদ করেই তো আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশের মানুষ ভালো থাকবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে, এটাই আমরা চাই।”

দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অন্তত তার মৌলিক চাহিদা, দুবেলা খাবার ব্যবস্থা, তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা করতে পারব।”

প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তৃতায় বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ চলমান শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে যেতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে দুষ্কৃতকারীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাবে।

“প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় মানুষ আশ্বস্ত হয়েছে। শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকলে তা হবে প্রশংসনীয়। অভিযান থেকে পেছপা হলে দুষ্কৃতকারীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়ে যাবে।”

ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের বিচারে স্বস্তি প্রকাশ করে বুয়েটের আবরার ফাহাদ, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, নারায়ণগঞ্জের তানভীর মোহাম্মদ ত্কী, কুমিল্লার সোহাগী জাহান তণু হত্যার বিচারও দ্রুত করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, “মাদকে ছেয়ে গেছে। ছোট বাচ্চারাও মাদকে বুঁদ হয়ে থাকে। কিশোর গ্যাং বের হয়েছে, ছোট ছোট বাচ্চাদের গ্যাং। তারা মাদকের ব্যবসা করছে।”

মাদক চক্র ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটা পরিবারে যদি মাদকাসক্ত সন্তান থাকে সেই পরিবারটাই ধ্বংস হয়ে যায় এবং অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটে।

“সন্ত্রাস একটা পরিবারকেই ধ্বংস করে না, এটা দেশের জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সে কারণেই আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখছি।”

জাতির পিতাকে হত্যার পর সেনা শাসনের বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “মিলিটারি ডিক্টেটররা একের পর এক অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে সমাজে একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করেছিল, যার কুফলটা সমাজ ও দেশ ভোগ করে।”

ট্রেন দুর্ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সংসদে বক্তৃতায় কসবারর পর সিরাজগঞ্জের ট্রেন দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন বলেন, “যেখানে ট্রেন চালাতে পারছে না, সেখানে কীভাবে পাতাল রেল চালাবে, মেট্রোরেল চালাবে?”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্ঘটনা, দুর্ঘটনা। কসবাতে যে দুর্ঘটনা ঘটল কুয়াশার কারণে ড্রাইভার সিগন্যাল দেখতে পারেনি। একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। ১৬ জনের মতো মানুষ মারা গেছে। আমি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখিত। সেই সাথে সাথে অনেকে আহত। তাদের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।”

বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জে রংপুর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় আহতদের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দুর্ঘটনার পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না বা কোনো চক্রান্ত আছে কি না, সেগুলো তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত করে তার যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নেব।

“আমরা দেখি একটা ঘটনা ঘটার সাথে সাথে কিন্তু পর পর এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। সেটাই বা কেন ঘটে? সেটাও আমাদের ভেবে দেখতে হবে। শীতকাল আসলে ট্রেন দুর্ঘটনা একটু বৃদ্ধি পায়। এর বিপরীতে কী করা যেতে পারে, সেটা আমরা দেখব।”

‘পড়াশোনা বন্ধ করে আন্দোলন নয়’

মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না বলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা বন্ধ করে আন্দোলন। আমরা বলেছি, অভিযোগ কী আছে, সেটা দিতে হবে। কী অভিযোগে আন্দোলন?

“আইনেরই একটা ধারা আছে, কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, আর সেটা যদি প্রমাণিত না হয়, যারা মিথ্যা অভিযোগ করবে তারা কিন্তু শাস্তি পাবে।

“এভাবে বারবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের জন্য, এটা কখনও হতে দেওয়া যায় না, আমরা হতে দিতে পারি না।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে কিছু কিছু জায়গায়, যেটা খুব দুঃখজনক। সেখানে একদল শিক্ষক থাকে, আমরা যদি ইতিহাস নেই কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের, দেখা যাবে এক ব্যক্তি যখনই যিনি ভিসি হচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই যাচ্ছেন।

“সেই ভিসিকে যখন তাড়াতে পারে, তখন পরবর্তীতে যখন আবার আন্দোলন করে, ওই আগের ভিসি আবার তার সাথে থাকে। এরকম ইতিহাসও আছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৩ জন ভিসিকে অপমান করে তাড়ানো হলো। কয়েকজন চিহ্নিত আছেন তারা অনবরত.. ওই একটাই তাদের দায়িত্ব।”

শিক্ষকদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের স্বার্থের জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করবে কেন? আর যখন আমরা ব্যবস্থা নিই, তখন আবার আন্দোলন কিসের?

“সাধারণ আন্দোলনে সীমিত কয়েকজন থাকে। এই যে বাকি ছাত্রছাত্রীরা তাদের তো পড়াশোনা নষ্ট হচ্ছে। তাদের লেখাপড়ার সময় নষ্ট হচ্ছে। তারা পড়াশোনা করতে পারছে না। যেখানে অনেক কষ্ট করে আমরা সেশনজট দূর করেছি। আজকে সেখানে তারা সেশন জট সৃষ্টি করা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *