ব্লয়িং ফ্রগ সিনড্রোম মেটাফোর এবং আমাদের করোনা।

এম. আই মুরাদM.I Murad

ব্লয়িং ফ্রগ সিনড্রোম মেটাফোর এই নিয়া জানে না এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। ছোট করে বলি। এই মেটাফোর অনুযায়ী একটা ব্যাঙকে একটা ছোট পাতিলে রেখে নিচ থেকে আগুনের তাপ দেওয়া হয়। পাতিলে থাকা ব্যাঙ হালকা তাপ পেয়ে ভাবে সহ্য করা যাবে, তাপ আরেকটু বাড়ে ব্যাঙও ভাবে সহ্য করা যাবে। তাপ আরেকটু বাড়ে ব্যাঙ তখনও নিজের শক্তি খরচ করে বসে থাকে আর ভাবে সহ্য করা যাবে। এমনি চলতে চলতে একটা সময় যখন তাপ ব্যাঙের সহ্যসীমার বাহিরে চলে যায় তখন ব্যাঙ ভাবে না, এইবার লাফ দিতেই হবে। কিন্তু লাফ দেওয়ার সে শক্তিটুকু তার আর থাকে না, কারণ সে তাপ সহ্য করতে করতে তার সব শক্তি ব্যয় করে ফেলছে। ব্যাঙের শেষ পরিণতি সে পাতিলেই মারা যায়। [ 1]

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ২মাস হতে চললো। আমাদের মধ্যে যে পরিমাণ ভয়ভীতি কাজ করেছে করোনা নিয়ে তার কতটুকু এই মাসে আমরা প্রতক্ষ করেছি তার নিয়ে আমার, যার হালকা কমনসেন্স আছে তার সন্দিহান থাকটা স্বাভাবিক। এখনো পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মারা গেছে ১৭০+-। বেসরকারি হিসেবে সেটা বেড়ে হয়তো ৫০০? কিন্তু ২ মাসেও যে মহামারী হয়নি এই ব্যাপারে পরিস্কার। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো করোনা নিয়া নতুন করে ভাবছে না। ভাবটা এমন সহ্য করতে পারবো। সরকার তো সাহায্য দিচ্ছেই।

লক ডাউনের বয়সও কম না। লক ডাউনের একমাত্র সমাধান হলো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো শহরে কিংবা গ্রামে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার চার আনাও মানা হয়নি। গ্রান অঞ্চলে মানুষ পুলিশের সাথে চোর পুলিশ খেলছে। তা ছাড়া শুধুমাত্র সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যদি রক্ষা পাওয়া যেত তাহলে বাংলাদেশের বস্তিগুলোতে হাজার হাজার মানুষ মরতো এত্তদিনে। এক করাইল বস্তিতে লাখের উপর মানুষ থাকে। [2] সেইখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তারা থাকে বলে মনে হচ্ছে? এরপরও এটা নিয়া নতুন করে ভাবার আমাদের সময় নেই। কারণ সহ্য করা যাবে, কিংবা দেখা যাক কি হয় আরো কয়টা দিন যাক।

আসেন কাচাবাজার প্রসঙ্গে। আপনি আমি বাসায় বন্দি কিন্তু আপনার বাসার কেউ না কেউ কিন্তু বাহিরে যাচ্ছে। বাজার করতে। বাংলাদেশে যদি করোনা ভয়াবহ রকমের হতো তাহলে এই এক কাচাবাজারই যথেষ্ট আপনার সো কলড “ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন” শ্লোগানের ১২টা বাজিয়ে দেওয়ার জন্য। এরপরও আমাদের চেতনা নাই, সহ্য করতে পারবো হয়তো, কয়টা দিন অপেক্ষা করা যাক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের গবেষণা মতে দেশে লাস্ট মার্চে শুধুমাত্র সেবা আর শিপ্ল খাতে লস ৩ ট্রিলিয়ন। এবং প্রতিদিন এই লস করছে ৩৩৩বিলিয়ন [3] এর পরও আমাদের করোনা প্রভাব নিয়ে চিন্তা করার সময় আসে নাই। সরকার তো টাকা দিচ্ছে। টাকা টা মনে হয় উড়ে উড়ে চলে আসবে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মতে এইভাবে যদি ৩মাস চলে পুরো পৃথিবীতে প্রতিদিন ৩লাখের বেশি মানুষ মারা যাবে না খেয়ে! প্রতিদিন তিন লাখ।[4]

এরপরও আমাদের নতুন করে ভাবার সময় হয় নাই।

WHO এর মতে করোনা ভাইরাসের ভ্যাক্সিন আসতে ১ বছর, কিংবা কখনোই আসবে না। আস্তে আস্তে সাধারণ ফ্লুয়ের আকার ধারণ করবে করোনা৷[5] তাও আমাদের এই নিয়া ভাবার সময় নাই।

এখনো মিডিয়া, সরকার, আমার আপনার মতো কতগুলা ফেসবুক একটিভিস্টের মতকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এই হেডলেস মন্সটার গুলা দেশটার ১২টা বাজাই ছাড়ছে, আরো ছাড়বে। অতিশীঘ্র বাংলাদেশ যদি অর্থনীতি, রাজনীতি, স্বাস্থ্য আর সমাজিক বিষয়ের এক্সপার্টদের নিয়ে না বসে তাহলে আমার ভয় হচ্ছে আমাদের দেশের শেষ পরিণতি ব্যাঙের মতোই হবে।

নিবন্ধটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। সম্পাদক কোনো মতামতের জন্য দায়ি  নয়।।