সারস্বত ব্রাহ্মণরাই মূল বৈদিক শ্রেণি।এরা শাকদ্বীপ(ইউরোপ)থেকে এসে ঋগ্বেদে উল্লেখিত সরস্বতী নদী বিধৌত অঞ্চল গান্ধার(আফগানিস্তান),আর্য (ইরান),পাকিস্তান অঞলে বসে বেদ দৃষ্ট হন।খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এই অঞ্চল গ্রীক রাজ্যের অধিনে যায় এবং ব্যাকট্রিয়া রাজধানী হয়।তারা আস্তে আস্তে জম্বুদ্বীপ(বর্তমান ভারত) আসেন এবং বেদ প্রচার চালিয়ে যান।দ্বিতীয় শতাব্দীতে একজন সারস্বত ব্রাহ্মণ বিন্ধ্যাচল থেকে দাক্ষিণাত্য পর্যন্ত রাজা হন যা ‘বাকাটক রাজবংশ’হিসেবে পরিচিত এরাই সর্বপ্রথম পদবী হিসেবে “সেন” ব্যবহার শুরু করেন।পূরাণে এদের “মূর্ধাভিষিক্ত ব্রাহ্মণ” বা “ব্রহ্মক্ষত্রিয়” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এরা বৈদিক জাতির “মূর্ধা” বা মস্তকে অভিষিক্ত এবং মনুসংহিতায় বলা হয়েছে ব্রহ্মার মস্তকের সর্বোচ্চ স্থান হতে এরা জাত।এই বংশের দ্বিতীয় রুদ্র সেন এর সাথে গুপ্ত রাজবংশের প্রভাবতী গুপ্তের বিবাহ হয় এবং রাজবংশ দুটির মিত্রতা হয়। এর ফলে সারস্বত ব্রাহ্মণরা পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে বেদ প্রচারের সুযোগ পান এবং সারা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েন। এই সময়কে বৈদিকধর্ম ও সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের স্বর্ণযুগ হিসেবে ধরা হয়।”কৌলিন্য ও বর্ণ সমীকরণ”এর অধিকার শুধুমাত্র সারস্বত ব্রাহ্মণদের রয়েছে এরা বিভিন্ন অঞ্চলের নাম অনুযায়ী ব্রাহ্মণ সমাজের নামকরণ করেছিলেন।দাক্ষিণাত্য শাসনের সুবাদে সবচেয়ে বেশি সারস্বত ব্রাহ্মণ দাক্ষিণাত্য ও বিন্ধ্যপর্বত অঞ্চলে বসবাস করে। পাল শাসনামলের সময় গৌড় এবং কামরূপের নিকটাধীন একটি অঞ্চলে এরা বাসকরত বলে ৬ষ্ট শতাব্দীর ভাস্করবর্মার তাম্রশাসনে ব্রাহ্মণ জমিদানে এদের নাম দেখা যায়।পরবর্তীতে বরেন্দ্রসেন একটি ক্ষুদ্র রাজ্য গড়ে তোলেন যা বরেন্দ্রভূমি হিসেবে পরিচিত।এটি পাল সাম্রাজ্যের সময় সামন্তরাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল পরবর্তীতে এই রাজ্যের সারস্বত ব্রাহ্মণ বীরসেনের ঔরসে এবং গৌড় সারস্বত ব্রাহ্মণ কন্যা সোমটা দেবীর গর্ভজাত বংশধরেরা পাল সাম্রাজ্য অধিকার করে আসমুদ্রহিমাচল সেন সাম্রাজ্যের সূচনা করে।বৌদ্ধ প্রধান বাংলায় হিন্দু প্রাধান্য সৃষ্টি করে।বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্রাহ্মণ আনয়ন করে।বিভিন্ন অঞ্চলে বৈদিকধর্ম প্রচারের জন্য দূত প্রেরণ করে।বেদানুসার বর্ণ ও কৌলিন্য সমীকরণ করে।৩যুগ বা ৩৬ বছর পরপর এই সমীকরণ হত এবং কর্মানুযায়ী বর্ণ ও কৌলিন্য নির্ধারণ হত। এই সমীকরণের কারণে সারস্বতসমাজে সম্প্রদায়ের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আধুনিক হিসাব অনুযায়ী ৪৬০ প্রকারের সারস্বত শ্রেণি আছে।